মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ফসলের উন্নত জাত

ফসলের উন্নত জাত

ধান

উফশী ধান
গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ধানের জাত উন্নয়নে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটিয়েছিলেন উদ্ভিদ প্রজননবিদগণ। খাটো জাতের এক ধানের সাথে কৃষকের মাঠ থেকে সংগ্রহ করা অনেকগুলো লম্বা জাতের ধানের সংকরায়ন করা হলো। অতঃপর শুরু হলো খর্বাকৃতির উচ্চফলনশীল ধানের জাত নির্বাচনের কাজ। এ ধরনের গবেষণা গোড়াতে জাপানে আর ভারতে শুরু করা হলেও আমাদের আবাদি শ্রেণীর ধানে সাফল্য আসলো আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট তথা ফিলিপাইনের ইরিতে। বিজ্ঞানের এ কর্মকাণ্ডের কারণে ধান গাছের ফলনশীলতার আশ্চর্য রকম পরিবর্তন ঘটে গেল। নতুন জাতের গাছগুলো খর্বাকৃতির হয়ে গেল। সার, সেচ প্রয়োগ আর আধুনিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণ সুফল এরা ভোগ কতে পারলে দেশী জাতের ধানের মতো এরা ঢলে পড়লো না। এদের পাতা খাড়া প্রকৃতির হওয়ায় পাতায় দু’পাশেই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চললো। ফলে এদের শিষ বড় হলো, শিষে বেশি করে ফুল ধরলো, অধিক সংখ্যাক ফুল ফলে পরিণত হলো। এ কারণে এসব জাতের ফলন বেড়ে গেল। এভাবে পাওয়া গেল সে সময়ের বিখ্যাত আই আর ৮, আই আর ২০ এসব জাত। এরই ফলশ্র্বতিতে বাংলাদেশেও খর্বাকৃতির  ধানের জাত উদ্ভাবন করা হলো। এসব জাতকে কাজে লাগিয়ে দিনে দিনে এসব উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত বিস্তৃতি লাভ করলো। এসব আধুনিক জাতের মাধ্যমে ধানের ফলন উল্লেখযোগ্য রকম বেড়ে গেল।

হাইব্রিড ধান
বিজ্ঞানীরা কেবল উফশী জাত নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারলেন না। পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আরো অধিক ফলনশীল ধানের জাত সৃষ্টি করা আবশ্যক হয়ে পড়লো। এবার আর সনাতন জাত সৃষ্টি করার কর্মকাণ্ড নয়। দুটি ধানের জাতের মধ্যে সংকরায়ন করে হাইব্রিড জাত সৃষ্টির চেষ্টা শুরু হলো। হাইব্রিড ধান উফশী ধান অপেক্ষাও কমপক্ষে শতকরা ১৫ ভাগ অধিক ফলন দেয় বলে চীন দেশে শুরু হলো হাইব্রিড জাত উদ্ভাবনের জন্য জোর গবেষণা। ধানে একটি ফুলে পরাগায়ন ঘটালে পাওয়া যায় একটি মাত্র ফল বা বীজ। ফলে বিকল্প কোনো কৌশলের সন্ধান করলেন বিজ্ঞানীরা। ধানের বুনো এক আত্মীয়ের মধ্যে পাওয়া গেল পুংবন্ধ্যা স্বভাব। বুনো ধানের এ স্বভাবটি সংকরায়ন পদ্ধতিতে নিয়ে আসা হলো আবাদি ধানের জাতগুলোতে। অবস্থাটা এমন দাঁড়ালো যে, সব গাছই হয়ে গেল স্ত্রী গাছ। ফলে পাশে রোপণ করে দেয়া হলো পুর্বষ গাছ। পুর্বষ গাছের পরাগরেণু স্ত্রী গাছের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ায় সহজেই তৈরি করা সম্ভব হলো ধানে হাইব্রিড বীজ। অতঃপর বিজ্ঞানীরা এ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করলেন নানা রকম হাইব্রিড জাত। চীন দেশে ব্যাপক সাফল্য নিয়ে আসলো হাইব্রিড জাত উৎপাদন প্রযুক্তি । ধানের ফলন বেড়ে গেল শতকরা ১৫-৫০ ভাগ পর্যন্ত। এ কৌশল ক্রমে ক্রমে ছড়িয়ে গেল চীনের সীমানা পেরিয়ে ভিয়েতনাম, ভারত, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশসহ আরো কিছু দেশে । ধানের ফলন বৃদ্ধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করলো হাইব্রিড ধানের জাত।

সুপার রাইস
খর্বাকৃতির বা আধা-খর্বাকৃতির উফশী ধানের উদ্ভাবনের ফলে বিজ্ঞানীরা আর এক দাপ এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেন। বিভিন্ন ধানের জাতের এ কাঙিত বৈশিষ্ট্য একটি জাতে সন্নিবেশন করতে চাইলেন বিজ্ঞানীরা। এর জন্য তারা বাছাই করে নিলেন একটি বা দুটি উত্তম জাত। এদেরকে সংকরায়ন করলেন বহু সংখ্যক জাতের সাথে ধাপে ধাপে যেন অন্য সব জাতের উত্তম বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায় একটি ধানের জাতে। এর জন্য ধানের আদর্শ একটি জাতের রূপকল্পও দাঁড় করিয়ে নিলেন তারা। এভাবে এ নিয়ে চললো সংকরায়ন আর বাছাই কর্মসূচি। এভাবে পাওয়া কিছু সম্ভাবনাময় বংশধর থেকে পরিবেশানুগ এবং উপযোগী গাছ বাছাই করে নেয়ার লক্ষে কিছু বীজ পাঠানো হলো ধান উৎপাদনকারী নানা দেশের গবেষকদের কাছে।

সুপার রাইসের সাফল্য বিজ্ঞানীরা ঘরে তুলতে ব্যর্থ হলেন। এর কারণও একাধিক। একটি উত্তম জাত অনেক জাতের একাধিক বৈশিষ্ট্য সংযোজন করে উত্তম জাতের ফল আরো বৃদ্ধি করার বিষয়টি বেশ জটিল। উত্তম জাতে সংযোজিত নানা জাতের উত্তম বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি দু’একটি করে খারাপ বৈশিষ্ট্যের জিনও এতে সংযোজিত হলো। ফলে এ মাত্রায় ফলন বাড়াবে বলে আশা করা হয়েছিল ফলন সে রকম বাড়েনি। তাছাড়া সনাতন সংকরায়ন পদ্ধতিতে কাঙিত জিন সন্নিবেশিত হলো কিনা কিংবা হলেও এর মাত্রা কতটুকু তা জানা প্রায় ক্ষেত্রেই অসম্ভব থেকে গেল। ফলে সুপার রাইস নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল তা আর বাস্তবে রূপ লাভ করলো না। কিন্তু সুপার রাইসের স্বপ্ন মুছে গেল বিজ্ঞানীদের  মন থেকে তা কিন্তু নয়। জিন প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রসার সে স্বপ্নকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে  যাওয়ার পথ সৃষ্টি করলো।

গ্রিন সুপার রাইস
এটি বিজ্ঞানীদের আর এক স্বপ্নের ধান। আর এক সবুজ বিপ্লবের লক্ষে এক দল বিজ্ঞানী শুরু করেছেন নতুন এ ধান সৃষ্টির গবেষণা । মূলত এ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক দল চীনা বিজ্ঞানী। এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সাইন্সেন্স এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা। এর সাথে রয়েছে চাইনিজ ৬টি বিখ্যাত সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানসহ চীনের অতিরিক্ত ৯টি বিভিন্ন আঞ্চলিক ধান প্রজনন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এর প্রকল্পের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইরি), আফ্রিকান রাইস সেন্টার (ওয়ার্ডা) এবং এশিয়ার বেশ ক’টি দেশের জাতীয় কৃষি গবেষণা ও সমপ্রসারণ সিস্টেম সাথে রয়েছে চীনের ৫টি প্রাইভেট বীজ কোম্পানি।

 

গমের জাত পরিচিতিঃ

বর্তমানে এদেশে অধিক আবাদকৃত গম জাতের মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী ও প্রতিভা রয়েছে। তাছাড়া সৌরভ (বারি গম-১৯) ও গৌরব (বারি গম-২০) নামে ২টি উচ্চ ফলনশীল নতুন জাত অনুমোদিত হয়েছে।

 

বিভিন্ন সবজিসংযুক্তোর তারিখ
আইলে ঝিঙার চাষ০৯ মার্চ ২০১২
টমেটো চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা১৮ ডিসেম্বর ২০১১
ফুলকপি চাষ২৩ অক্টোবর ২০১১
ধনেপাতার চাষ০৬ এপ্রিল ২০১১
বিষমুক্ত শাক-সব্জীর চাষ০৬ এপ্রিল ২০১১
আইলে সবজি চাষ০৫ এপ্রিল ২০১১
মরিচ, মিষ্টি আলু, তরমুজ, বেগুন, ক্ষিরা গাছের পরিচর্যা এবং সার প্রয়োগ০৭ মার্চ ২০১১
বস্তায় সবজি চাষ০৮ জানুয়ারী ২০১১
বাউ বেগুন-১‘ চাষপদ্ধতি০৮ জানুয়ারী ২০১১
পাহাড়ে হলুদ চাষ পদ্ধতি০৬ ডিসেম্বর ২০১০
সরিষা চাষের সময় এখনই১১ নভেম্বর ২০১০
মরিচের সাথে ভুট্টা চাষ০১ নভেম্বর ২০১০
একই সাথে বাদাম ও রসুনের চাষ২৯ অক্টোবর ২০১০
শীতের সবজি ব্রোকলি২৮ অক্টোবর ২০১০
কচুর লতি চাষ২৮ অক্টোবর ২০১০
শীতকালীন সবজি২৫ অক্টোবর ২০১০
লাউ টমেটো মরিচ পেঁপে বীজ লাগান২৫ অক্টোবর ২০১০
শীতকালে বেগুন চাষ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১০
মাশরুম চাষ১৩ জুন ২০১০
উচ্চ ফলনশীল সুস্বাদু মুখী কচুর চাষ